আমার প্রতিবাদের ভাষা

– স্বামীক সেন

 

(This blog is the first in the series of blogs that JILS will publish in various vernacular languages as a part of its initiative to mark the International Mother Language Day. Please note this piece is an updated version of a piece which has published earlier and removed.)

 

ভাষা মানুষের জন্মগত অধিকার, তা শুধু দুটি মানুষের পারস্পারিক ভাব অভিবক্তির মাধ্যম ই নয় – ভাষা একটি সেতু. এমন এক সেতু যা সমাজকেই ঐক্যবোধ করে, অনাচার-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংঘর্ষ করার রসদ যোগায়, এই আকারেও স্বপ্ন দেখতে শেখাছে. বিশ্বের এবং এই ভারতের ইতিহাসে বারবার দেখা গিয়েছে যে যখন একদল আপাত-নিরীহ মানুষের ওপর কোনোও ভাষা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, তখন মানুষ গর্জে উঠেছে, বিক্ষোভ বিপ্লবে মুখর হয়েছে।
আমাদের সংবিধান আমাদেরকে আমাদের ভাষা, সংস্কৃতিকে সংরক্ষা করার মৌলিক অধিকার প্রদান করেছে। ২৯ ও ৩০ নম্বর ধারা স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়ে যে কারুর বিরুদ্ধে ভাষা বৈষম্য করা যাবেনা এবং এমনকি ভাষাগত সংখ্যাল্যুরও তাদের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখবার হেতু নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন করতে এবং চালাতে পারবে. অন্যায়নও সমস্ত মৌলিক অধিকার যেমন সমতার অধিকার বা মতপ্রকান স্বাধীনতার অধিকার – প্রতি ক্ষেত্রেই মানুষের ভাষাসতীন্ত্র বজায় রাখা এবং ভাষার কারণে প্রভেদের নিকর্না হওয়ার কথা প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে বলা আছে.

কিন্তু বাস্তবে আমরা কি দেখি? স্বাধীনতার এতগুলো বছর পরেও আমরা জাতীয় ভাষা (national language) এবং সরকারি ভাষা (official language) নিয়ে সংশয়ে ভুগি . এখনো প্রবলভাবে কোনো একটি বা দুটি ভাষা মানুষের ওপর চালিয়ে দেওয়ার রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র চলতে থাকে. এখনো আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা দেখি যে ইংরেজির জ্ঞান না থাকার কারণে কোনো মানুষকে শ্লেষ-বিদ্রুপ তার থেকেও বেশি বিদ্বেষ সহ্য করতে হচ্ছে. ইদানিং কালের একটি খবরের কথাই বলি. খবরের কাগজের সূত্র অনুযায়ী আমাদের এই কলকাতা শহরের একটি বিপনীতে কিছু কর্মচারীদের ছাটাই করা হয়ে কারণ তারা তাদের ক্রেতাদেরকে ” নমস্তে ” না বলে ” নমস্কার ” বলে সম্বোধন করেছিলেন. তাও কিনা সরস্বতী পুজোর দিনে.
এমন ঘটনা কিন্তু রোজই ঘটছে. আমরা হয়ে তার কথা জানি না, বা জানতে চাই না, বা আমাদের অনায়াস সৌখিন জীবনে এই সমস্ত ঘটনা কেবলমাত্র বুদ্ধদ সৃষ্টি করে মিলিয়ে যায় – আমাদেরকে  ভাবায় না. যোগাযোগের বা চাকরির বা বৃহত্তর স্বার্থগত সুবিধার কারণে আমরা আমাদের মাতৃভাষা ও নিজবনস্মৃতির নিঃশব্দ মৃত্যুবরণ ও আগ্রাসী ভাসান্ত্রাসের সানন্দে পদ লেহন – উভয়ই মেনে নিই. এমন অবস্থায় কি উপায়ে? কিভাবে আমরা সুনিশ্চিত করতে পারি যে ভাষার ভিত্তিতে বৈষম্য বা বিদ্বেষ বন্ধ হবে? আমার চোখে এর উত্তর আসতে হবে সংবিধান থেকেই . আমাদের মৌলিক অধিকার গুলিকে প্রধানত নেতিবাচক অধিকার (negative right) হিসেবে গন করা হয়ে. অথার্ৎ রাষ্ট্রের ওপর দায়িত্ব যে সে কারুর কোনো মৌলিক অধিকার অযৌক্তিক ভাবে হস্তক্ষেপ করবে না. ২৯ নম্বর ধারাতেও এই নেতিবাচকতার চিহ্ন বর্তমান. এখন সময়ে এসেছে ভাষা সংরক্ষন ও ভাষা বৈষম্য রোধ করাকে মানুষের ইতিবাচক অধিকারের জায়গায় নিয়ে আশা – রাষ্ট্রের ওপর দায়িত্ব দেওয়া যে সকল ভাষাকে সমান সম্মান এবং সমান ব্যবহারিক গুরুত্ব দিতে হবে. তা হলেই সংবিধান বর্ণিত ‘বিবিধের মাঝে ঐক্য” বাস্তবে পরিমুলতা লাভ করবে

 

The author, Professor Shameek Sen, is an Assistant Professor (Law) at the National University of Juridical Sciences (NUJS), Kolkata.

We would also like to extend special gratitude to Jyotishka Guha, 3rd Year B.A. LLB. (Hon.) student at NUJS, for providing assistance in inputs.

Leave a comment