By Dr. Sugato Mukherjee
(This blog is the first in the series of blogs that JILS will publish in various vernacular languages as part of its initiative to mark the International Mother Language Day.)
পুরুষ ও নারী সৃষ্টির দুই স্তম্ভ। প্রাকৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায় যে “পুরুষ নিজেকে যতই মহান ভাবুক, তার জন্ম কোনো নারীর গর্ভেই হয়েছে ; কোনো নারী নিজেকে যতই আধুনিক গড়ে তুলুক তার পূর্ণতা দান কোনো পুরুষই করেছে। এই কারণেই লিঙ্গ ন্যায়বিচার বিষয়টি আমাদের সভ্যতার যাত্রাপথের এক অবিচ্ছেদ্দ্য অংশ। এখন এই ন্যায়বিচার সুনিশ্চিত করার একটি বড় মাধ্যম হলো যেকোনো দেশের আইন ব্যবস্থা। অথচ ভারতীয় আইন গভীর ভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে আমাদের দেশের আইন ব্যবস্থায় এই লিঙ্গ ন্যায়বিচার বিষয়টিতে প্রথম থেকেই একমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে । বিষয়টি একটু সবিস্তারে বললে বলতে হয় আমাদের দেশের আইন সম্পূর্ণরূপেই নারী স্বার্থ সংরক্ষণের পক্ষে । পুরুষদের স্বার্থ এবং নিরাপত্তার বিষয়টি ভারতীয় আইন এ কেবল উপেক্ষিত নয়; যথেষ্ট ভাবে অবহেলিত ও বটে ।
উপরোক্ত লিখিত পটভূমি বিবেচনা করলে একথা বলা অযৌক্তিক হবে না যে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ধারা ৬৯ এর মাধ্যমে পুরুষদের স্বার্থ এবং নিরাপত্তার উপেক্ষা এবং অবহেলার বিষয়টি আরো একবার ফুটে উঠেছে। বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে গেলে প্রথমে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ধারা ৬৯ সম্বন্ধে একটি সম্যক ধারণা দেওয়া প্রয়োজন।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ধারা ৬৯ অনুযায়ী “যে ব্যক্তি, প্রতারণামূলক উপায়ে বা প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোন মহিলার সাথে বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা পূরণ করার কোন অভিপ্রায় ছাড়াই এবং তার সাথে যৌন মিলন করে, এই ধরনের যৌন মিলন ধর্ষণের অপরাধের সমান নয়, সে যেকোন বর্ণনার জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবে। মেয়াদ দশ বছর পর্যন্ত প্রসারিত হতে পারে এবং জরিমানাও দিতে হবে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে পদোন্নতির মিথ্যা প্রতিশ্রুতি বা পরিচয় গোপন করে বিয়ে বা কোনো প্রলোভন ও প্রতারণামূলক উপায়ে এই ধারা অনুযায়ী।
আপাত দৃষ্টিতে এই ধারা টি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ মনে হলেও সাম্প্রতিক বাস্তবতাকে বিবেচনা করে এই ধারার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক নয়। বিষয়টি একটু বিশদে আলোচনা করলে বলতে হয় এই আইন অনুযায়ী কোনো মহিলা যদি বলে যে কোনো পুরুষ তাকে বিবাহের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন সম্পর্ক করেছিল এবং পরবর্তী কালে বিবাহ সম্পন্ন হয়নি তাহলে কোনো রকম তথ্য প্রমান ছাড়াই যে পুরুষের বিরুদ্ধে এরম অভিযোগ করা হবে তাকে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করা হবে এবং জেলে পাঠানো হবে। এই ধারা অনুযায়ী যে পুরুষের বিরুদ্ধে এরম অভিযোগ করা হবে তার শাস্তি দশ বছর পর্যন্ত হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই ধারা একমাত্র কোনো মহিলা প্রয়োগ করতে পারবে ; কোনো পুরুষ এই ধারা প্রয়োগ করতে পারবে না।
এখন সাম্প্রতিক অতীতে আমরা দেখেছি এবং দেখছি, কি ভয়াবহ এবং পরিকল্পিত ভাবে “women’s protective laws”-er অপপ্রয়োগ ঘটেছে । ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো ২০১৯ এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ৭৪ শতাংশ ধর্ষণ মামলা মিথ্যে বলে প্রমাণিত হওয়া; ৮৬ শতাংশ বধূ নির্যাতন মামলা মিথ্যে বলে প্রমাণিত হওয়া; ৭২ শতাংশ শ্লীলতাহানির মামলা মিথ্যে প্রমাণিত হওয়া ; গুরগাওঁ তে ২০২২ সালে আয়ুষী ভাটিয়া নামের এক মহিলার ৮ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যে FIR করা এই বলে যে তারা তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো এবং তার ভিত্তিতে সেই ৮ জনের গ্রেফতার হওয়া এবং তাদের জীবনের মূল্যবান সময় ও সম্মান হারিয়ে যাওয়া ; মধ্যপ্রদেশের জাবলপুরে ২০২২ সালে SONIA KESWANI (তার এফআইআরগুলিতে তিনি “বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে ধর্ষণ” “অস্বাভাবিক যৌনতা” এর একই টেমপ্লেট ব্যবহার করেছেন যদিও তিনি বিবাহিত এবং ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন, ধর্ষণের মামলা দায়ের করার পরে যে স্বামীকে বিয়ে করেছেন তার উপর পারিবারিক সহিংসতার মামলা করেছেন।) নামে এক মহিলার 6টি ভিন্ন পুলিশ স্টেশনে 5টি ভিন্ন পুরুষের বিরুদ্ধে 6টি ধর্ষণের মামলা দায়ের করা এবং তার ভিত্তিতে যাদের বিরুদ্ধে ঐসব কেস ফাইল করা হয়েছিল তাদের গ্রেফতার হওয়া ও সামাজিক সম্মান ধুলিস্বাৎ হয়ে যাওয়া; অথবা কোনো আইনি প্রতিকার না থাকার কারণে উদ্বেগজনক ভাবে বিবাহিত পুরুষদের আত্মহত্যার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়া আজ দৈনন্দিন ঘটনায় পরিণত হওয়া–এই সবকিছুই তার প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য বহন করে ।
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করা সমীচীন হবে যে সাম্প্রতিক অতীতে একটি মামলার (Vivek Kr. Maurya vs State of UP and Others CRIMINAL MISC. BAIL APPLICATION No. – 23551 of 2023) রায়দান করতে গিয়ে মহামান্য এলাহাবাদ হাই কোর্ট এর একটি অতি তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ যে “প্রকৃত যৌন হয়রানির ঘটনা আজ ব্যতিক্রম” । আবার Swapan Kr. Das vs. State of WB মামলার রায়দান করতে গিয়ে মহামান্য কলকাতা হাই কোর্ট পর্যবেক্ষণ যে IPC 498A ধারার অপব্যবহার একটি নতুন “আইনি সন্ত্রাসবাদ” উন্মোচন করেছে, তা ও এই প্রসঙ্গে এক ই ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ । একক বিচারক বিচারপতি শুভেন্দু সামন্ত বলেছেন যে এই ধারাটি মহিলাদের কল্যাণে আনা হলেও এখন এটি “অপব্যবহার” হচ্ছে। “সমাজ থেকে যৌতুকের হুমকি দূর করতে আইনসভা ধারা 498A এর বিধান প্রণয়ন করেছে। কিন্তু বেশ কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায় যে উক্ত বিধানের অপব্যবহার করে নতুন আইনী সন্ত্রাস উন্মোচিত হচ্ছে।”
শুধু হাইকোর্ট নয়, এমনকি ভারতের সুপ্রিম কোর্টও বিভিন্ন নারী সুরক্ষা আইনের অপব্যবহারের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অপব্যবহার শুধুমাত্র IPC 498A ধারায় সীমাবদ্ধ নয়; কিন্তু এই অপব্যবহার সবচেয়ে জনপ্রিয়। NCRB (ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরো) এর 2020 রিপোর্ট অনুসারে, ধারা 498 A-এর অধীনে নথিভুক্ত মোট মামলার সংখ্যা ছিল 1,11,549টি এই 5,520 টি পুলিশ দ্বারা মিথ্যা বলে বিবেচিত হয়েছিল এবং 16,151টি মিথ্যা তথ্যের ভুলের কারণে বন্ধ করা হয়েছিল।
সংক্ষেপে, এটা বলা যেতে পারে যে ধর্ষণ, যৌন হয়রানি এবং যৌতুকের মিথ্যা অভিযোগ ভারতে এখন একটি সাধারণ বিষয়। তবে রাজনৈতিকভাবে সঠিক থাকার জন্য কোনো রাজনৈতিক দল, সেলিব্রেটি বা মিডিয়া এ নিয়ে কথা বলতে চায় না। এই সমস্যা বিরাজ করবে এবং নিশ্চিতভাবে এটি শেষ হবে না, যতক্ষণ না এটি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হয়। নারীবাদী সংগঠনগুলি তাদের নিজস্ব লোকদের নিয়ে তাদের নিজস্ব এলোমেলো সমীক্ষার মাধ্যমে ভারতকে নারীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ হিসাবে চিত্রিত করে চলেছে। তবে, আমরা যখন প্রকৃত সংখ্যা, গ্রাউন্ড লেভেল থেকে সংগৃহীত তথ্য, প্রতিটি থানা এবং প্রতিটি আদালত দেখি, বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ভারতে সমস্যা হল এই লিঙ্গ-পক্ষপাতমূলক আইনগুলিতে “নির্দোষ প্রমাণিত না হলে পুরুষদের দোষী বলে ঘোষণা করা হয়”। প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের নীতি” হিসাবে বিভিন্ন আইনের বইয়ে যা লেখা হয়েছে তার থেকে এটি সম্পূর্ণ বিপরীত বাস্তবতা।
এই ধরনের বাস্তবতা বিবেচনা করে পুরুষদের বিরুদ্ধে ভারতে মহিলাদের দ্বারা দায়ের করা বিপুল সংখ্যক মিথ্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, এই নতুন লিঙ্গ পক্ষপাতমূলক আইনটি এমন প্রবণতা সহ মহিলাদের দেবে, পুরুষদের ব্ল্যাকমেইল করার বা তাদের জীবন নষ্ট করার আরেকটি হাতিয়ার। ইতিমধ্যেই এমন অনেক নিরপরাধ ব্যক্তি কারাগারে বন্দী। যারা এই আইন সমর্থন করে তাদের নিজেদের ছেলে বা ভাই আইনের অপব্যবহারের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত। ভারতে আইন প্রণেতারা যদি সত্যিই বিবাহপূর্ব যৌন সম্পর্কযুক্ত মহিলাদেরকে প্রশ্নবিদ্ধ প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করতে চান, তাহলে কেন বিবাহপূর্ব যৌনতাকে এই ধরনের প্রতিশ্রুতিতে ‘সম্মতি’ দেওয়া একটি জটিল অপরাধ হিসেবে পরিগণিত হবে না যেখানে উভয় পক্ষকেই দোষী বলে গণ্য করা হয়? অবশ্যই, এটি একটি ভাল প্রতিরোধক হবে ।
আমাদের দেশের আইন প্রণেতারা যদি সত্যিই আমাদের সমাজে লিঙ্গ ন্যায়বিচার আনতে আগ্রহী হন, তাহলে তাদের অবশ্যই আইনগুলোকে লিঙ্গ নিরপেক্ষ করতে হবে। আমরা আমাদের সমাজে লিঙ্গ ন্যায়বিচার স্থাপন করতে পারি না যদি আইন একটি লিঙ্গ অর্থাৎ নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে “লিঙ্গ সমতা” অভিব্যক্তিটিকে ব্যাখ্যা করে। একটি সত্য উপলব্ধি করতে হবে যে অপরাধের কোন লিঙ্গ নেই। আমাদের সুশীল সমাজ কে এই বিষয়ে সক্রিয় হতেই হবে। আপামর জন সাধারণের মধ্যে এই সচেতনতা বৃদ্ধিতে আমাদের সুশীল সমাজ কে সচেষ্ট হতেই হবে কিন্তু মনে রাখতে হবে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো পরিবর্তন হয় না; সামাজিক পরিবর্তন রাজনৈতিক পরিবর্তন করায়, রাজনৈতিক পরিবর্তন, অর্থনৈতিক পরিবর্তন আনে; সংস্কৃতিক পরিবর্তন সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের বহমান স্রোতের গতিবেগ কে তরাণ্বিত করে। একটাকে আরেকটার থেকে বিচ্ছিন্ন করলে পরিবর্তনের সম্পূর্ণ প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায় ।
The author, Dr. Sugato Mukherjee, is an Assistant Professor of Law at the Amity Law School, a part of the Amity University-Haryana.
