– জ্যোতিষকা গুহ
(This blog is the seventh in the series of blogs that JILS will publish in various vernacular languages as a part of its initiative to mark the International Mother Language Day)
ইদানীংকালে জাতীয়তাবাদ বিষয়টি আমাদের আলোচনার শীর্ষে বারবার উঠে এসেছে। জাতিসত্ত্বার ধারণাটি জনমানসে মূলতঃ যে ‘একতা ‘র অনুভূতি জাগায় সেখানে প্রত্যেক নাগরিককে একটিমাত্র ‘কল্পিত সম্প্রদায়‘ (Imagined Community)[1] এর অংশ হিসেবে ভাবা হয়। সমস্যা দেখা দেয় তখনই যখন আমরা সেই অনুভূতির সঙ্গে বিশেষ কিছু মূল্যবোধকে নির্দিষ্ট করে দিই, ফলস্বরূপ কিছু মানুষ যারা সেইসকল মূল্যবোধগুলির সঙ্গে একাত্ম হন না, ক্রমশঃ নিজেকে বহিরাগত ভাবেন। রাষ্ট্রদ্রোহ আইন এটা করতে একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। এই আইনের বলে রাষ্ট্র জনগনের ‘আনুগত্য‘ দাবি করে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায় এই আইনের অস্পষ্টতার কারনে, এটির প্রয়োগ ‘ভিন্নমত‘ কে দমন করার কাজে ব্যবহার করা হয়। অমূল্য লিওনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ আইন প্রয়োগের ঘটনাটি সেই ক্রমিকে সাম্প্রতিকতম সংযোজন যেখানে ভিন্নমতের কন্ঠরোধ করার প্রয়াস লক্ষ্য করা যায়। যদিও এখনো তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি, তবে কার্ল শ্চমিট র এর একটি ‘সার্বভৌম-একনায়ক ‘(sovereign-dictator) উদাহরণ দিয়ে আমি দেখাব যে তাকে গ্রেপ্তার করা আমাদের দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশে একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। সমকালীন জাতীয়তাবাদের ধারণার পরিপ্রেক্ষিতে তাই রাষ্ট্রদ্রোহ আইনটির পুনর্মূল্যায়ন প্ৰয়োজন বলে মনে হয়। সর্বপ্রথমে আমাদের দেশের বর্তমান রাষ্ট্রদ্রোহ আইনটির একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া যাক।
ঔপনিবেশিক ভারত
‘রাষ্ট্রদ্রোহ‘ কে ভারতীয় দন্ডবিধির ধারা ১২৪ এ এর অধীনে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এইভাবে, যাকিছু আইনের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত সরকারের ‘অসন্তোষ‘ (disaffection) উদ্রেক করে অথবা করার চেষ্টা করে। আইনটি ব্রিটিশ সরকার ১৮৭০ সালে মূলতঃ ক্ৰমবৰ্ধমান ওয়াহাবি আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্য লাগু করে।[2] তাই প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে এটি ব্যবহৃত হয়। সময়ের সাথে সাথে ব্রিটিশ আদালত ‘অসন্তোষ‘ শব্দের পরিধিও প্রশস্ত করে। উদাহরণস্বরূপ, দুজন ব্রিটিশ আধিকারীরকে হত্যার প্ররোচনা দেবার অভিযোগে যখন বাল গঙ্গাধর তিলকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা চলছিল তখন আদালত ‘অসন্তোষ‘ শব্দটি ‘আনুগত্যহীনতা‘(disloyalty) দ্বারা প্রতিস্থাপিত করে।[3] অন্য একটি মামলায় আদালত ‘অসন্তোষ‘ শব্দের আলোচনায় দুটি ব্যাখ্যা দেয়- একটি হল সন্তুষ্টির অভাব এবং অপরটি সরকারের প্রতি ‘বিরূপ অনুভূতি‘।[4] তবে ফেডারেল আদালত ১৯৪২ সাল এ একটি পৃথক অবস্থান নিয়েছিল যেখানে বলা হয়েছিল কেবলমাত্র উতেনামূলক ভাষা যথেষ্ট নয় যদি না তার প্রয়োগ একজন ‘যুক্তিসঙ্গত মানুষকে‘ হিংসাত্মক কার্যকলাপে প্ররোচিত করে।[5] তবে শীঘ্রই এটি পরবর্তী মামলায় নাকচ করা হয়। সেখানে প্রিভি কাউন্সিলের অভিমতে কোন উত্তেজনামূলক ভাষণ হিংস্রতার জন্ম না দিলেও অপরাধ বলে গণ্য হবে।[6]
স্বাধীন ভারত
আমাদের সংবিধান নির্মাতারা প্রথমে সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদের অধীনে বাকস্বাধীনতা সংকোচনের ভিত্তি হিসাবে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ‘ ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কিছু গণপরিষদ সদস্যদের তীব্র বিরোধিতার কারণে তা বাদ দেওয়া হয়েছিল, যদিও ১২৪এ ধারাটি আইপিসিতে থেকে যায়।[7] তবে সংবিধান-পূর্ব বিধান হওয়ায় এটি ‘সংবিধানের অনুমান‘ (presumption of constitutionality) উপভোগ করে না।[8] সংবিধানের ১৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, কোনো আইন সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে সেটি সংবিধানবিরোধী হবে। তাই যখন দুটি বিপরীত ব্যাখ্যা উপস্থিত হয়, তখন এই অনুমানটির ক্ষমতাবলে আদালত সেই ব্যাখ্যাটি গ্রহণ করে যেটি সাংবিধানিক। এলাহাবাদ হাইকোর্ট এই আইনটিকে সংবিধানবিরোধী বলে ঘোষণা করে কারণ এটি সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত কোনো ‘যুক্তিসঙ্গত বিধিনিষেধ‘ এর অধীনে আসে না।[9] তবে শীঘ্রই পরবর্তী একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্ট সাংবিধানিক মান্যতা দেয় কারণ তার মনে হয়েছিল যে এই সীমাবদ্ধতা সংবিধানের ১৯(২) অনুচ্ছেদে উল্লিখিত ‘রাষ্ট্রের সুরক্ষার‘ অধীনে আসে।[10] মজার বিষয় হল, এলাহাবাদ হাইকোর্ট বিশেষভাবে বলেছিল যে, ‘সরকার পরিবর্তন‘ এর দাবীতে করা যে কোনো বক্তব্য ‘রাষ্টের সুরক্ষার‘ জন্য হুমকি হতে পারে না যতক্ষন পর্যন্ত তা কোনো সাংবিধানিক উপায়ে করার কথা বলে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট একবারের জন্যও এই মামলাটির উল্লেখ করেনি এবং কেবলমাত্র ফেডারেল কোর্টের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে এই বিধানটিকে সাংবিধানিক বলে ঘোষণা করে কারণ ‘রাষ্ট্রদ্রোহের‘ জন্য সহিংস্রতা বা বিশৃঙ্খলা প্ররোচিত করার প্রয়াস বা প্রবণতার প্রয়োজন। আদালত প্রিভি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে কারণ এই ব্যাখ্যাটি আইনটিকে অসাংবিধানিক উপস্তাপিত করত। শীর্ষ আদালতের রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের এই নিষ্পত্তি প্ৰস্তাৱ দুটি কারণে সমালোচিত হয়।প্রথমত, এই ব্যাখ্যা ভারতীয় আদালতের রায়ের বদলে ব্রিটিশ আদালতের রায়ের উপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয়ত, এটি সংবিধান-পূর্ব বিধানকে ‘সাংবিধানিক অনুমান‘ হিসেবে মান্যতা দেয়।
রাজনৈতিক অস্ত্র
এই বিধানটি কেবল রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয় বরং অনেক নাগরিকের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হচ্ছে যাদের সরকার পছন্দ করে না। ক্রিকেট ম্যাচে পাকিস্তানকে সমর্থন করা অথবা কেবলমাত্র নকশাল সাহিত্যের অনুলিপি রাখার জন্যও মামলা করা হয়েছে।[11] বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মামলাগুলোতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার হার খুব কম। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৪ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ১১২ টি মামলার মধ্যে মাত্র ২ টি ক্ষেত্রে দন্ডিত হয়েছে[12] এবং 2017 এনসিআরবি পরিসংখ্যান বলছে পুনরায় তদন্ত করার কোনও নজির নেই.[13] যদিও আদালত দোষী সাব্যস্ত করার বিষয়ে অত্যন্ত সতর্কতা দেখিয়েছে, কিন্তু এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করে যে মামলাগুলি শুধুমাত্র হয়রানি এবং মানহানি করার জন্যে দাখিল করা হয়েছিল । উদাহরণস্বরূপ, একটি মামলায় যেখানে ‘খালিস্থানিপন্থী‘ স্লোগান দেওয়া হয়েছিল, আদালতের ব্যাখ্যা, মানুষকে উস্কে দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য ছাড়াই দুবার স্লোগান তুলে দেওয়া রাষ্ট্রদ্রোহ নয় ।[14]
ঘটনা
অমূল্য লিওনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগও বিধানটির এক অপব্যবহারের উদাহরণ। অমূল্য লিওনা একজন ছাত্রী ও সমাজকর্মী, বেঙ্গালুরুতে একটি জনসভায় তিনি ‘সর্বজনীন শান্তির‘ জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁর মূল বক্তব্যটি ছিল প্রতিটি নাগরিকের নিজের দেশের জন্য গর্বিত হওয়ার এবং দেশের কাজ করার অধিকার আছে, এর মধ্যে দিয়ে আমরা ‘সর্বজনীন শান্তি‘ অর্জনে সক্ষম হব। এক্ষেত্রে তিনি অন্যান্য দেশের জন্য ‘জিন্দাবাদ‘ স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ‘ ও উচ্চারণ করেছিলেন। শুধু এই ঘটনাতেই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দাখিল করে।
বন্ধু-শত্রূ বিভাজন
যদিও তাঁর বক্তব্যটি ধারা ১২৪এ এর শর্ত পূরণ করে না, কিন্তু পুলিশ এবং মিডিয়া যেভাবে আচরণ করেছিল তাতে মনে হয় তাঁর একমাত্র ভুল ছিল ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ‘ উচ্চারণ করা।[15] প্রসঙ্গতঃ ‘ফ্রি কাশ্মীর‘ এর মতো বিতর্কিত বিষয় উত্থাপনকারীদের বিরুদ্ধেও রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে, কিন্তু এই বিশেষ মামলাটি একটি বৃহত্তর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। এখানে স্পষ্ট যে পুলিশের একটি অংশের মতে পাকিস্তান আমাদের ‘শত্রূ রাষ্ট্র‘ এবং সুতরাং এর পক্ষে যে কোনো কথা বলা একটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার নজির। এই ‘চিরদিনের শত্রূতার‘ অনুভূতি কে জার্মান রাজনৈতিক পন্ডিত কার্ল স্মিট তার ‘কনসেপ্ট অফ দি পলিটি‘ বইটি তে ‘বন্ধু-শত্রূ‘ বিভাজন (Friend-enemy distinction) বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন যে কোনো রাষ্টের অস্তিত্বের জন্যে ‘রাজনৈতিক একতার‘ প্রয়োজন এবং তার জন্যে দরকার সামাজিক সমসত্ত্বতা (social homogeneity)। তাই সামাজিক সমসত্ত্বতা ধরে রাখার জন্যে যে কোনো ‘সার্বভৌম একনায়ক‘[16] কোনো শত্রূ জিইয়ে রাখে। এই ধারণা জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের জাতীয়তাবাদের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে যার জন্যে তারা এক গোষ্ঠী হয়ে লড়াই করে মরতে এবং অপর গোষ্ঠী কে শত্রূ হিসাবে হত্যা করতে প্রস্তুত (Association-disassociation) ।[17] এই ভাবনা জনসাধারণের মধ্যে একটি সুরক্ষার অনুভূতি তৈরি হয় এবং সার্বভৌম একনায়কের কর্তৃত্বকে প্রশ্নাতীত করে তোলে। তিনি আরও বিশ্বাস করতেন যে এই শত্রূ সর্বদা রাষ্ট্রের আকারে থাকার দরকার নেই। এটি নিজের দেশের মধ্যেও সম্মিলিত ভাষাগত বা ধর্মীয় পরিচয়ের আকারে, এমনকি একজন ব্যাক্তিমানুষও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ১৮৯৪ সালে ফ্রান্স এ কুখ্যাত ড্রেইফুস অ্যাফেয়ার (Dreyfus Affair) কথা বলা যেতে পারে, যেখানে একজন ফরাসি ইহুদি সৈনিককে গুপ্তচরবৃত্তি করার মিথ্যা অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। শাস্তি বিধানের পর তাকে ছিন্ন ঊর্দিতে, Death to the Jews স্লোগান তুলে প্রকাশ্যে প্যারেড করানো হয়।[18] এইটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা যেখানে একজন ব্যক্তিমানুষের দোষের ভাগীদার সমগ্র সম্প্রদায়ের উপর বর্তায় । ১৯৩৬-৩৮ সালে মস্কো ট্র্যায়েলস (Moscow Trials) এ স্তালিন বিরোধী বলশেভিক নেতাদের মিথ্যা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করা আর একটা উদাহরণ ।[19]
উপসংহার
আমাদের বোঝা উচিত, আসলে রাষ্ট্রদ্রোহ আইন সরকারকে রক্ষা করে, রাষ্ট্রকে নয়। ফলে এটির প্রচুর অপব্যবহার হয় । যদিও এই আইন খালিস্থানি আন্দোলন বা নকশাল আন্দোলনের মতো জঙ্গিবাদকে বিনাশ করতে ব্যবহৃত হয়েছিল, অমূল্য লিওনার ঘটনাটি এক্ষেত্রে স্বতন্ত্র্য। এটি কেবল ব্যক্তিমানুষের উপর আক্রমণই নয় , সর্বজনীন শান্তি এবং দুটি জাতির শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ধারণাতেও আঘাত বলে মনে হয়। তাঁর বক্তব্য কোনোভাবেই রাষ্ট্র বা সরকারের কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করে না। তাঁর ভাষণ ছিল দেশে বিরাজমান সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের পরিবেশের বিরুদ্ধে। সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের ধারণা মানুষকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করে যে রাষ্ট্রের এক চিরস্থায়ী শত্রূ রয়েছে এবং তাকে ঘৃণা করার মাধ্যমে নিজের জাতির প্রতি অসীম আনুগত্য প্রদর্শন করা সম্ভব। কার্ল স্মিটের ‘সার্বভৌম- একনায়ক ‘ এবং তৎসম্পর্কিত ঐতিহাসিক ঘটনাবলী প্রমাণ করেছে যে স্বৈরাচারী শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রায়ই এই অনুভূতি ব্যবহৃত হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে স্বভাবতঃই প্রশ্ন ওঠে যে বিরোধী কন্ঠস্বর রোধ এবং রাষ্ট্রদ্রোহ আইনের ব্যবহার গণতন্ত্রের পক্ষে কতখানি মঙ্গলময়!!
The author, Jyotishka Guha, is currently a 3rd Year B.A. LLB. (Hon.) student at the National University of Juridical Sciences (NUJS), Kolkata.
[1] This is a concept introduced by Benedict Anderson where he opines that a nation is based upon same collectivity in terms of common history, beliefs or traditions. This entails people to live together despite not knowing each other.
[2] Atul Dev, A History of the Infamous Section 124A, https://caravanmagazine.in/vantage/section-124a-sedition-jnu-protests Last Seen 12.04.2020
[3] Queen Empress v. Bal Gangadhar Tilak ILR (1898) 22 Bom 112
[4] Queen Empress v. Amba Prasad ILR (1898) 20 All 55
[5] Niharendu Dutt Majumdar v. The King Emperor MANU/FE/0005/1942
[6] King Emperor v. Sadashiv Narain Bhalerao (1947) LR 74 IA 89
[7] Nivedita Saksena & Siddharth Srivastava, An Analysis of the Modern Offence of Sedition NUJS Law Review Issue 7(2014)
[8] State of West Bengal vs Anwar Ali Sarkar AIR 1952 SC 284
[9] Ram Nandan vs State MANU/UP/0033/1959
[10] Kedar Nath Singh vs. State of Bihar : MANU/SC/0074/1962
[11] Dr. Binayak Sen vs State of Chattisgarh Chattisgarh High Court Criminal Appeal No 20 of 2011
[12] NCRB Data 2017 Vol 2 https://ncrb.gov.in/sites/default/files/Crime%20in%20India%202017%20-%20Volume%202_0.pdf Last Seen 12.04.2020
[13] NCRB Data 2017 Vol 2 Pg- 846 https://ncrb.gov.in/sites/default/files/Crime%20in%20India%202017%20-%20Volume%202_0.pdf Last Seen 12.04.2020
[14] Gurjatinder Pal Singh vs. State of Punjab (27.01.2009 – PHHC) : MANU/PH/2036/2009
[15] Snigdha Sharma, India’s TV mob has found a new villain. Her name is Amulya Leona https://www.newslaundry.com/2020/02/21/indias-tv-mob-has-found-a-new-villain-her-names-amulya-leona Last Seen 12.04.2020
[16] A Sovereign-Dictator is the one who decides the State of Exception where the Sovereign curtails civil and political rights of its citizens in order to fight against the ‘enemy’.
[17] Carl Schmitt, https://plato.stanford.edu/entries/schmitt/#ConPolCriLib Last Seen 12.04.2020
[18] Elizabeth Nix, What was the Dreyfus Affair, https://www.history.com/news/what-was-the-dreyfus-affair Last Seen 12.042020
[19] Great Purge https://www.history.com/topics/russia/great-purge Last Seen 12.04.2020
