By Rishav Ray
(This is our first post as we begin the 2nd edition of the JILS Vernacular Publication Initiative, to mark the celebration of the International Mother Language Day. Through this initiative, we at JILS, attempt to take a small step towards making legal education and information more inclusive and accessible, and countering the stronghold of English in legal academia, through publication in vernacular languages.)
গত বছর মে মাসে এক ভয়ঙ্কর বর্বরোচিত ঘটনা বিশ্বের সকল মানুষের রক্ত হিম করে দিয়েছিল। মার্কিন পুলিশের হাতে জর্জ ফ্লয়েডের অমানবিক মৃত্যু। যে ঘটনা জন্ম দিয়েছিল “Black Lives Matter Movement”[1]নামক এক স্ফুলিঙ্গের যেটি অতি অল্প সময়েই দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল পৃথিবীর প্রতিটি কোণে। পুলিশের অত্যাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার আর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দেখা দিল আন্দোলন যার ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছিল এই উপমহাদেশের বুকেও। এই ঘৃণ্য ঘটনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ করেছিল অনেকেই।
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় এটাই যে ভারতবর্ষীয় দলিত বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ যখন একইরকম অমানবিকতার শিকার হয়,তখন সেই প্রতিবাদী কণ্ঠস্বরগুলিই ক্রমশ ক্ষীণ হতে হতে কোথায় যেন মিলিয়ে যায়। কিন্তু একথা বলা ভুল হবে যে ভারতবর্ষে এ ধরনের ঘটনা ঘটেই না বা ঘটলেও কম ঘটে।
গত একটা বছর ধরে সমগ্র পৃথিবী জুড়ে এক ভয়াল ঝড় বয়ে চলেছে। কোভিড ১৯ নামক অতিমারীর করাল গ্রাসে মানবজাতি ত্রস্ত,বিপন্ন,অসহায়।
তার পাশাপাশি মানুষ নিজেদের দেশীয় আইন এবং সমাজব্যবস্থার আভ্যন্তরীণ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়েছে। এমনই এক ভয়ানক সমস্যা হল পুলিশবাহিনীর নিজেদের ক্ষমতার অপব্যবহার।
১৯ জুন ২০২০। সরকার নির্দিষ্ট লকডাউন আইন লঙ্ঘনের অপরাধে তামিলনাড়ুতে গ্রেপ্তার করা হল এক পিতা ও তার পুত্রকে।[2]
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যে তারা নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তাদের দোকান খোলা রেখেছিল। দুদিন পর খবর পাওয়া গেল পুলিশবাহিনীর অমানবিক অত্যাচারে মৃত্যু হয়েছে তাদের। রক্ষকই যেখানে ভক্ষক হয়ে ওঠে সেখানে বোধহয় এভাবেই লঘু পাপে গুরুদণ্ড লাভ করে আমজনতা।
এই ঘটনার অভিঘাত বহুদূরে ছড়িয়ে পড়ে। সোশাল মিডিয়ায় তীব্র ধিক্কার বর্ষিত হয়। প্রথমে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত নড়ে বসল তামিলনাড়ু সরকার ও প্রশাসনিক বিভাগ। মৃতের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তেরও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হল। তদন্তের ভার তুলে দেওয়া হল Central Bureau of Investigation এর হাতে।[3] সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া প্রতিবাদের আগুন শেষপর্যন্ত সরকারকে এইরূপ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছিল।
তবে এই ঘটনাটি ব্যতিক্রমী মাত্র। সাধারণত দেখা যায় এই ধরণের ঘটনা সম্পূর্ণ রূপে চাপা পড়ে যায়। “বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে।”
অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও একথা সত্যি যে সমগ্র ভারতবর্ষে শুধুমাত্র ২০১৯ সালে ১৭৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে পুলিশি হেফাজতে যাদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিল দলিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষ।[4] National Crime Record Bureau-র তথ্যসূত্র অনুসারে ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ৫৯১ টি মৃত্য ঘটেছে পুলিশি হেফাজতে।[5] কিন্তু একটি ঘটনাতেও কোনো পুলিশ অফিসারকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
National Human Rights Commission ২০১৮সালের একটি তথ্যে জানিয়েছে যে এর প্রধান কারণ হল সরকার তথা প্রশাসনিক বিভাগের তদন্তের গাফিলতি। [6]
ভারতীয় বিচারবিভাগ (Judiciary) অতীতে বহুবার পুলিশ কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে রায় দিয়েছে।
D.K.Basu v. State of West Bengal[7] মামলায় মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ে স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে ‘Sovereign immunity defence ‘ কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করা যাবে না।
Charan Lal Sahu v. Union Of India[8] মামলার রায়দানের মধ্যে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট সুনির্দিষ্ট করে বলেছিল স্বতন্ত্রতার অধিকার এমনই এক মৌলিক অধিকার যা ব্যক্তির জীবনে ন্যায়,শান্তি ও স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি আর এই অধিকার রক্ষা করাই বিচারবিভাগের প্রধান কর্তব্য।
নীলাবতী বেহেরা[9] মামলায় শীর্ষ আদালত নির্দেশ দেয় এবং ঘোষণা করে যে পুলিশের হেফাজতে থাকা যেকোনো বিচারাধীন বন্দির প্রাণের অধিকার রক্ষার সকল দায়িত্ব তাদেরই (আর্টিকেল ২১)।
বিচারবিভাগীয় রক্ষাকবচও কিন্তু শেষপর্যন্ত পুলিশি নির্যাতন থেকে ভারতবর্ষের মানুষকে উদ্ধার করতে পারেনি।
পুলিশ ও প্রশাসনের কাজই হল ব্যক্তি মানুষের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সমাজে আইন ও শৃঙ্খলা যাতে যথাযথভাবে এবং সসম্মানে পালিত হয় সেই দিকে কঠোর দৃষ্টি রাখা। কিন্তু তাদের অমানবিক আচরণের ফলে অনেকাংশেই আস্থা হারিয়ে সাধারণ মানুষের মনে ত্রাস সৃষ্টি করেছে তারা। যদিও অনেকক্ষেত্রেই পুলিশ প্রশাসন যে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করে সেটাও উল্লেখের দাবি রাখে।
তবে ব্যতিক্রমী হিসেবে নয় সার্বিকভাবেই পুলিশ প্রশাসন যেন ভারতবর্ষের মতো গণতান্ত্রিক দেশে সংবিধানের সম্মান রেখেই নিজের মানবিক রূপটি প্রকাশ করে। তার জন্যে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে।
সকলকে মনে রাখতে হবে “মানুষ মানুষের জন্যে।” মনে রাখতে হবে “আমরা তিমির বিলাসী নই, তিমির বিনাশী হতে চাই।”
The author, Rishav Ray, is currrently a second year law student at the School of Law, Christ University, Bangalore.
We would like to extend our special thanks and gratitude to Sounak Roy, a second-year law student at the West Bengal National University of Juridical Sciences (NUJS), Kolkata, for assisting us with his review and inputs.
[1] Larry Buchanan, Quoctrung Bui and Jugal K. Patel, Black Lives Matter May Be the Largest Movement in U.S. History, The New York Times (03,07,2020) https://www.nytimes.com/interactive/2020/07/03/us/george-floyd-protests-crowd-size.html, last seen on 15/02/2021.
[2] Father And Son Duo Allegedly Killed In Police Custody For Opening Shop Beyond Time In Tamil Nadu, The New Indian Express ( 23/06/2020), available at https://www.newindianexpress.com/states/tamil-nadu/2020/jun/23/father-and-son-duo-allegedly-killed-in-police-custody-for-opening-shop-beyond-time-in-tamil-nadu-2160262.html, last seen on 15/02/2021.
[3] TN Custodial Deaths: Case of Jeyaraj-Beniks Transferred to CBI, The Quint, available at https://www.thequint.com/news/india/tamil-nadu-cant-turn-blind-eye-to-police-torture-amnesty-india-sathankulam-thoothukudi-police-brutality-jayaraj, last seen on 15/02/2021.
[4] India Annual Report On Torture 2019, National Campaign Against Torture, available at http://www.uncat.org/wp-content/uploads/2020/06/INDIATORTURE2019.pdf, last seen on 15.02.2021.
[5] Human Rights Watch Publishes Report On Deaths In Indian Police Custody: Chri Contributes To Study, Common Wealth Rights Initiative, available at https://www.humanrightsinitiative.org/in-the-news/human-rights-watch-publishes-report-on-deaths-in-indian-police-custody-chri-contributes-to-study, last seen on 15.02.2021.
[6] India 2018 Human Rights Report, United States Department of State, available at https://www.state.gov/wp-content/uploads/2019/03/INDIA-2018.pdf, last seen on 15.02.2021.
[7] D.K Basu v. State of West Bengal (1997) 1 SCC 416.
[8] Charan Lal Sahu v. Union of India 1990 AIR 1480.
[9] Nilabati Behara Alias Lalit v. State of Orissa 1993 AIR 1960.
